ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দায় দোকানে ঢুকে রাব্বি (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের আট ঘণ্টার মধ্যে খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। র্যাবের দাবি, হত্যায় বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করা হয়েছে।
নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দার আকাশ কম্পিউটার নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরাও সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাব্বিকে বাঁচাতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে গুরুতর আহত রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল। তবে সেটি চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক দাবি করেছেন, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন তার বাবা ফজলুল হককে মারধর করে একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। ওই ঘটনার জেরে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল। পাশাপাশি রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে খালেক জানিয়েছেন। তবে তার এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র্যাব।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় খালেকও তার বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেন। তবে তার বক্তব্যের অভিযোগগুলো তদন্তাধীন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, র্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশও অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতিনিধি :